💰 প্রযুক্তি জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ইলন মাস্ক যিনি স্পেসএক্স, টেসলা এবং এক্স (পূর্বের টুইটার)-এর প্রধান, বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হয়েছেন।
💰 গ্লোবাল মিডিয়া কোম্পানি ফোর্বসের মতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের (৩৭০.৯ বিলিয়ন পাউন্ড) বেশি মোট সম্পদের মালিক হন।
এর এক মাস পর, টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা একটি রেকর্ড-ভাঙা বেতন চুক্তি অনুমোদন করেন, যার মূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে।
💰 কিন্তু ২০২৬ সালের জুনে, মাস্কের রকেট-নির্মাতা ও স্যাটেলাইট অপারেটর স্পেসএক্স যা এক্স, গ্রক এবং স্টারলিংকেরও মালিক, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তার মোট সম্পদ বিলিয়নেয়ারকে ছাড়িয়ে ট্রিলিয়নেয়ারের মর্যাদায় উন্নীত হয়।
💰 ১৯৭১ সালের ২৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী মাস্ক অল্প বয়সেই উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর প্রতিভা দেখিয়েছিলেন। তিনি তাঁর ভাইয়ের সাথে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘরে তৈরি চকোলেটের ইস্টার এগ বিক্রি করতেন এবং ১২ বছর বয়সে তাঁর প্রথম কম্পিউটার গেম ‘ব্লাস্টার’ তৈরি করেন।
তিনি গেমটি কম্পিউটার ম্যাগাজিন প্রকাশক ‘পিসি অ্যান্ড অফিস টেকনোলজি’-র কাছে ৫০০ ডলারে বিক্রি করেন। গেমটির উদ্দেশ্য ছিল মহাকাশচারীকে ‘মারাত্মক হাইড্রোজেন বোমা এবং স্ট্যাটাস বিম মেশিন বহনকারী ভিনগ্রহের মালবাহী জাহাজটি ধ্বংস করা’।
💰 তাঁর জন্মগত নাম ইলন রিভ মাস্ক। তাঁর বাবা এরল মাস্ক ছিলেন একজন দক্ষিণ আফ্রিকান ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং মা মে (হ্যাল্ডেম্যান) মাস্ক ছিলেন একজন কানাডীয় পুষ্টিবিদ ও মডেল।
💰 ১৯৭৯ সালে ইলনের প্রায় ৮ বছর বয়সে তাঁর বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয় ।
💰 তিনি ১৯৯০-১৯৯২ সালে কানাডার অন্টারিওর কিংস্টনের কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে এবং ১৯৯৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বি.এস. ও পদার্থবিজ্ঞানে বি.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি অল্প সময়ের জন্য স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়াশোনা করেন।
💰 ইলন মাস্ক নিজের খরচে কলেজে পড়াশোনা করলেও, প্রায় ১ লক্ষ ডলারের ছাত্র ঋণ নিয়ে তা শেষ করেন। খরচ চালানোর জন্য তিনি বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছেন যেগুলোর মধ্যে একটি ছিল কাঠকলে ঘণ্টায় ১৮ ডলারের বিনিময়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ।
💰 ইলন মাস্ক ২৪ বছর বয়সে তাঁর ভাই কিম্বাল মাস্ক এবং গ্রেগ কৌরির সাথে তার প্রথম কোম্পানি, জিপ২ (Zip2), চালু করেন। ১৯৯৯ সালে কোম্পানিটি ৩০৭ মিলিয়ন ডলারে কমপ্যাক (Compaq) কিনে নেয়।
💰 ২০০০ সালে ইলন মাস্ক তাঁর কোম্পানি এক্স.কম (x.com)-কে কনফিনিটির (Confinity) সাথে একীভূত করেন। এটি ২০০১ সালে অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পেপ্যাল (PayPal)-এ পরিণত হয়। এরপর ২০০২ সালে ১.৫ বিলিয়ন ডলারে ইবে (eBay) পেপ্যালকে কিনে নেয়।
💰 ২০০২ সালে ইলন মাস্ক মহাকাশযান নির্মাতা এবং মহাকাশ পরিবহন পরিষেবা সংস্থা স্পেসএক্স (SpaceX) প্রতিষ্ঠা করেন। কোম্পানিটির লক্ষ্য হলো মহাকাশে যাতায়াতের খরচ কমানো এবং একদিন মঙ্গল গ্রহে উপনিবেশ স্থাপন সম্ভব করে তোলা।
💰 ২০০৪ সালে ইলন মাস্ক বৈদ্যুতিক যানবাহন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা মোটরস-এ যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি চেয়ারম্যান এবং সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। টেসলা’র প্রথম গাড়ি ছিল রোডস্টার যা ২০০৮ সালে বাজারে আসে। বর্তমানে টেসলা বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
💰 ২০০৬ সালে ইলন মাস্ক সৌরশক্তি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা সোলারসিটি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন। তিনি বর্তমানে এই কোম্পানির চেয়ারম্যান। তিনি তাঁর চাচাতো ভাই পিটার এবং লিন্ডন রিভের সাথে মিলে কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৬ সালে টেসলা ২.৬ বিলিয়ন ডলারে কোম্পানিটি কিনে নেয় এবং এর নাম পরিবর্তন করে টেসলা এনার্জি রাখা হয়।
💰 ২০১৫ সালে ইলন মাস্ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধকারী একটি অলাভজনক গবেষণা সংস্থা ওপেনএআই (OpenAI) সহ-প্রতিষ্ঠা করেন। এই কোম্পানিটি পরবর্তীতে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি যন্ত্রসৃষ্ট লেখা, সঙ্গীত এবং কোডিং-এর জন্য সিস্টেম তৈরি করে। মাইক্রোসফট এর একটি উল্লেখযোগ্য অবদানকারী।
💰 ইলন মাস্ক টানেল নির্মাণকারী সংস্থা ‘দ্য বোরিং কোম্পানি’-ও সহ-প্রতিষ্ঠা করেছেন। ভূগর্ভস্থ টানেলের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে যানজট কমানোই এই কোম্পানির লক্ষ্য। এটি যে দু’টি প্রকল্পে কাজ করেছে সেগুলো লস অ্যাঞ্জেলেস এবং লাস ভেগাসে অবস্থিত।




