জীবনে দাঁতের ব্যথায় ভোগেননি এরকম মানুষ খুব একটা পাওয়া যাবে না। আর দাঁতের ব্যথা যে কতটা কষ্টকর সেটা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। যদিও এ উন্নত যুগে দাঁতের ব্যথা দূর এবং চিকিৎসা করাতে অত্যাধুনিক সব ব্যবস্থা আবিষ্কৃত হয়েছে তারপরও অবাক করা ব্যাপার হলো দাঁতের ব্যথায় ভুগছেন এমন লোকেরা নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে একটি গাছের গুঁড়িতে পেরেক দিয়ে নেপালি রুপির কয়েন গেঁথে দেন ব্যথা থেকে মুক্তির আশায়।
পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এ গুঁড়িটি রয়েছে কাঠমান্ডুর থামেল ও দরবার স্কয়ারের মাঝামাঝি একটি সরু রাস্তায় দাঁতের ব্যথার দেবতা বৈশা দেবের মন্দিরে।
বলা হয়ে থাকে গাছের গুঁড়িটি ‘বঙ্গেমুধা’ নামে পরিচিত পৌরাণিক গাছ থেকে কাটা একটি পবিত্র স্থান। ‘বঙ্গে’ অর্থ হলো আঁকাবাঁকা আর ‘মুধা’ অর্থ গাছের খণ্ড। তবে এটি যে আদৌ গাছ তা বলা প্রায় অসম্ভব কারণ এটি পুরোপুরি ঢেকে রয়েছে নেপালি রুপির কয়েনে।
যদিও এই মন্দিরটি আসলে কত বছরের পুরনো তা জানা অসম্ভব তারপরও কিছু সূত্র দাবি করে যে এটি কাঠমান্ডু উপত্যকায় আনুমানিক ৪০০ থেকে ৭৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যের লিচ্ছভি রাজ্যের সময়কালের।
কাঠমান্ডুতে বেশ কয়েক দশক ধরে দাঁতের আধুনিক চিকিৎসা চালু থাকলেও বৈশা দেবী তাদের দাঁতের ব্যথার সমাধান খুঁজে দেবেন এই আশায় মানুষ এই গাছের গুঁড়িতে কয়েন গেঁথে দিতে আসেন নিয়মিত।
কিংবদন্তি আছে যে এই পবিত্র গাছের স্তূপের মূল গর্তের গভীরে একটি ছোট সোনার খোদাই করা মূর্তি রয়েছে। তবে অসংখ্য কয়েনের মাঝে সেটিকে দেখতে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
হাজার হাজার মানুষ যখন দাঁতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে এই গাছের গুঁড়িতে কয়েন গেঁথে দিতে আসেন তখন সুযোগ বুঝে বৈশা দেবের মন্দিরের আশেপাশে দাঁতের চিকিৎসার ব্যবসা শুরু করে দিয়েছেন অনেক দন্ত চিকিৎসক। ফলে এই বিখ্যাত গাছের গুঁড়িকে কেন্দ্র করে এলাকাটি সুপরিচিত হয়ে উঠেছে কাঠমান্ডুর ‘ডেন্টাল ডিস্ট্রিক্ট’ বা ‘দন্ত জেলা’ হিসেবে।





