ব্রিটিশ মিউজিয়ামের গ্রেট কোর্টের কেন্দ্রে অবস্থিত রিডিং রুমটি ছিল ব্রিটিশ লাইব্রেরির প্রধান পাঠ কক্ষ। ১৯৯৭ সালে এই পাঠ কক্ষটি লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাসে অবস্থিত নতুন ব্রিটিশ লাইব্রেরি ভবনে স্থানান্তরিত হলেও রিডিং রুমটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে তার আসল রূপে রয়ে যায়।
১৮৫০-এর দশকের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ মিউজিয়াম গ্রন্থাগারের আরো বড় পাঠ কক্ষের প্রয়োজন দেখা দিলে তৎকালীন মুদ্রিত বইয়ের রক্ষক আন্তোনিও পানিজি উইলিয়াম হোসকিংয়ের আগের একটি প্রতিযোগিতার ধারণা অনুসরণ করে জাদুঘরটির কেন্দ্রীয় অংশে একটি গোলাকার কক্ষের চিন্তাভাবনা করেন।
এই রিডিং রুমটির ডিজাইন করেছিলেন সিডনি স্মার্ক। ১৮৫৪ থেকে ১৮৫৭ সালের মধ্যে নির্মিত রিডিং রুমটি উদ্বোধন করা হয় ১৮৫৭ সালের ২ মে। ৮ থেকে ১৬ই মে-এর মধ্যে রিডিং রুমটিতে ৬২ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।
রোমের প্যানথিয়নের অনুকরণে তৈরি গম্বুজটির ব্যাস ৪২.৬ মিটার। পাঠ কক্ষের চারপাশে নির্মিত বইয়ের তাকগুলি যেন বিশাল ওজন বহন করতে এবং আগুন থেকে রক্ষা করতে পারে সেজন্য সেগুলি তৈরি করা হয় লোহা দিয়ে। নতুন জায়গায় গ্রন্থাগারটি স্থানান্তরের আগে এর বইয়ের তাকের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার।
নিচের ভিডিওটি দেখুন
গ্রন্থাগারটি ব্যবহার করার জন্য নিয়মিত ব্যবহারকারীদের লিখিত আবেদন করে প্রধান গ্রন্থাগারিক থেকে একটা টিকেট নিতে হতো।
এটিতে যখন ব্রিটিশ লাইব্রেরি ছিল তখন শুধু নিবন্ধিত গবেষকরাই প্রবেশ করতে পারতেন তবে তাঁরা ছাড়াও অন্য যারা নিজেদের একনিষ্ঠ গবেষক প্রমাণ করতে পারতেন তাঁরাও এ গ্রন্থাগার ব্যবহারের সুযোগ পেতেন।
ব্রিটিশ মিউজিয়ামের রিডিং রুমটিতে বই পড়তে আসতেন অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সান ইয়াত-সেন, কার্ল মার্কস, অস্কার ওয়াইল্ড, ফ্রিডরিখ হায়েক, মার্কাস গারভে, ব্রাম স্টোকার, মহাত্মা গান্ধী, রাডইয়ার্ড কিপলিং, জর্জ অরওয়েল, জর্জ বার্নার্ড শ, মার্ক টোয়েন, ভার্জিনিয়া উলফ, আর্থার রিমবাউড, এইচ. জি. ওয়েলস, স্যার আর্থার কোনান ডয়েল এবং ভ্লাদিমির লেনিন। লেনিন এই পাঠ কক্ষে আসতেন জ্যাকব রিখটার নাম ব্যবহার করে।
১৯৯৭ সালে ব্রিটিশ লাইব্রেরি সেন্ট প্যানক্রাস রেলওয়ে স্টেশনের পাশে বিশেষভাবে নির্মিত নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হলে সমস্ত বই এবং তাক সরিয়ে ফেলা হয়। সেই বছর সেটি বন্ধ করে পরে পুনরায় খোলা হয় ২০০০ সালে এবং সবার প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।





