প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে আলাস্কায় পৌঁছান ডেনমার্কের নাবিক ভাইটাস জোনাসেন বেরিং যিনি ছিলেন রাশিয়ার নৌবাহিনীর একজন অফিসার। ১৭৪১ সালে তিনি রাশিয়ার জন্য কাজ করছিলেন। হাজার হাজার বছর ধরে আলাস্কা আদিবাসীদের দখলে থাকলেও অষ্টাদশ শতাব্দীর পর ইউরোপীয়রা এটিকে বিভিন্ন দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে শুরু করে। এর ৪০ বছর পর রুশরা আলাস্কায় বসতি স্থাপন করে।
কিন্তু ১৮৫০ সালের মধ্যেই অনেক আমেরিকান, কানাডীয় সেখানে বসতি স্থাপন করে। পরে রাশিয়া আলাস্কা বিক্রি করে দিতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম সিউয়ার্ড রাশিয়ার কাছ থেকে ৭.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে আলাস্কা কিনে নেন। তখন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেছিলেন যে আলাস্কা হচ্ছে একটি বরফজমা অপ্রয়োজনীয় জায়গা। তাই তারা আলাস্কাকে মূল্যহীন মনে করে ‘সিউয়ার্ড’স ফলি’ বা ‘সিউয়ার্ড’স আইসবক্স’ নামে ডাকা শুরু করে।
পরে ১৮৯৬ সালে আলাস্কায় স্বর্ণ আবিষ্কৃত হয়। তারপর সেখানে তেল ও গ্যাসের বিশাল সংগ্রহও পাওয়া যায়। মার্কিনীদের কাছে প্রথমে মূল্যহীন মনে হওয়া আলাস্কা ১৯৫৯ সালের ৩ জানুয়ারি ৪৯তম মার্কিন অঙ্গরাজ্যে পরিণত হলে কেউ আর তাকে ‘সিউয়ার্ড’স ফলি’ ডাকার সাহস করেনি।
এত মূল্যবান রাজ্যটি কিনতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কত খরচ হয়েছিল জানেন? প্রতি একরে মাত্র ২ সেন্ট।





