সবসময় আমরা যে ডিম খাই সেই ডিমের খোসার রঙ হয় সাধারণত সাদা কিংবা বাদামী কিন্তু শুনলে অবাক হবেন পৃথিবীতে এমন ডিমও আছে যে ডিমের খোসার রঙ সম্পূর্ণ কালো। হ্যাঁ, এরকম ডিম পাওয়া যায় জাপানে। টোকিও থেকে পশ্চিমে হাকোনে অঞ্চলের ওয়াকুদানি উপত্যকা এলাকায় পাওয়া যায় সেই ডিম। ওয়াকুদানি একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরির উপত্যকা যা স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘জিগোকুদানি’ অর্থাৎ ‘নরকের উপত্যকা’ হিসাবে যাকে ‘ফুটন্ত উপত্যকাও’ বলা হয়ে থাকে।

আসলে ডিমগুলো মোটেও কালো রঙের নয়, সাধারণ মুরগীর ডিমের মতোই সেগুলোর রঙ। গন্ধক মিশ্রিত পানিতে সিদ্ধ করার ফলে সেগুলোর খোসার রঙ কালো হয়ে যায়। তবে ভিতরে অ্যালবুমেন অর্থাৎ সাদা অংশ এবং হলুদ কুসুমের রঙের কোনো পরিবর্তন হয় না। নষ্ট হয় না ডিমের গুণাগুণ এবং সেগুলো খাওয়ার জন্য নিরাপদও।
আসলে সাধারণ ডিমকে গন্ধক ও লৌহ মিশ্রিত পানিতে সিদ্ধ করার ফলে সেগুলোর খোসার রঙ কালো হয়ে যায়। এই কালো ডিম যেগুলো স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘কুরো-তামাগো’ হিসেবে সেগুলো খাওয়া শুধু নিরাপদই নয় এমন বিশ্বাসও প্রচলিত আছে যে এই কালো ডিম খেলে আয়ু বেড়ে যায় গড়ে ৫ থেকে ৭ বছর। চারটি কুরো-তামাগো অর্থাৎ কালো ডিমের দাম জাপানি মুদ্রায় পড়ে ৫শ’ ইয়েন যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩৭৪ টাকার মতো।
প্রায় ৩ হাজার বছর আগে মাউন্ট হাকোনের অগ্ন্যুৎপাত শুরু হলেও এর থেকে এখনও ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় যেহেতু আগ্নেয়গিরিটি জীবন্ত অর্থাৎ সক্রিয় রয়েছে। এক হাজার মিটার উঁচুতে অবস্থিত মূল গন্ধক খনিটি দেখতে যেতে পারেন পর্যটকরাও। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা যায় মাউন্ট ফুজি।

কথিত আছে যে বিখ্যাত বৌদ্ধ পুরোহিত কুকাই কোবো দাইশি যিনি ছিলেন শিঙ্গন স্কুল অব বুড্ডিজমের প্রতিষ্ঠাতা তিনি হেইয়ান যুগে (৭৯৪-১১৮৫ খ্রিস্টাব্দে) ওই অঞ্চলে যান। সেই সময়টা পরিচিত ছিল ‘দাইজিগোকু’ অর্থাৎ ‘মহা নরক’ হিসেবে।
তিনি সেই এলাকার মানুষের দুঃখ ভারাক্রান্ত চেহারা দেখে কষ্ট পেয়েছিলেন। তাই তিনি তাদের সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘজীবন কামনা করে নিজের তৈরি বুদ্ধের একটি ছোট মূর্তি নিয়ে প্রার্থনার আয়োজন করেন এবং আগ্নেয়গিরিটির ফুটন্ত পানিতে ডিম সিদ্ধ করে খাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন।
প্রবীর বড়ুয়া
Prabir Barua





